ইউএনডিপির প্রতিবেদন

সিরিয়ার অর্থনীতি বর্তমান গতিতে এগোলে পুনরুদ্ধারে লাগবে ৫৫ বছর

প্রবৃদ্ধির হার নাটকীয়ভাবে না বাড়লে শিগগিরই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অর্থনীতি কয়েক দশক আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না।

প্রবৃদ্ধির হার নাটকীয়ভাবে না বাড়লে শিগগিরই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অর্থনীতি কয়েক দশক আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না। বর্তমান প্রবৃদ্ধির হারে দেশটির অর্থনীতি এগোলে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে ৫৫ বছর লাগবে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। খবর আরব নিউজ।

সিরিয়ার জিডিপি ২০১১ সালের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে এবং বেকারত্ব বেড়েছে তিন গুণ। তবে প্রতিবেদন বলছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বছরে ছয় গুণ বাড়লে সিরিয়া এক দশকের মধ্যে পুনরুদ্ধার করতে পারে।

‘দি ইমপ্যাক্ট অব দ্য কনফ্লিক্ট ইন সিরিয়া: আ ডেভাস্টেটেড ইকোনমি, পারভেসিভ প্রভার্টি অ্যান্ড আ চ্যালেঞ্জিং রোড অ্যাহেড টু স্যোশাল অ্যান্ড ইকোনমিক রিকোভারি’ শিরোনামের প্রতিবেদনে সিরিয়ায় সংগঠিত ১৪ বছরের যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমান প্রবৃদ্ধির হারে সিরিয়ার অর্থনীতি ২০৮০ সালের আগে তার যুদ্ধ-পূর্ব জিডিপি স্তরে পৌঁছতে পারবে না। সংঘাত না ঘটলে অর্থনীতি যে স্তরে পৌঁছত ১৫ বছরের মধ্যে তা পুনরুদ্ধার করতে হলে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দশ গুণ বাড়াতে হবে।

সিরিয়ার ৯০ শতাংশ মানুষ এখন দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে এবং প্রতি চারজনের একজন বেকার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির অর্থনীতি আনুমানিক ৮০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের জিডিপি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য খাত ভেঙে পড়েছে। এক-তৃতীয়াংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় অর্ধেক অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা অকার্যকর। শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন, যেখানে ৬-১৫ বছর বয়সী শিশুদের ৪০-৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে।

গৃহায়ন ও জনসেবামূলক পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যেখানে এক-তৃতীয়াংশ বাসস্থানের অবস্থা খারাপ, ফলে ৫৭ লাখ সিরীয় জনগোষ্ঠীর আশ্রয়ের প্রয়োজন। এছাড়া অর্ধেকের বেশি পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো, যা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ৮০ শতাংশ কমে গেছে, ফলে জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা কমেছে তিন-চতুর্থাংশ।

সব মিলিয়ে সিরিয়ার মানব উন্নয়ন সূচক (এইচডিআই) ২০১০ সালের দশমিক ৬৬১ থেকে কমে দশমিক ৫৫৭-এ নেমে গেছে, যা ১৯৯০ সালের স্তরেরও নিচে।

ইউএনডিপির প্রতিবেদনটি দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার গতিশীল করতে এবং স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেছে। ইউএনডিপি প্রশাসক আখিম স্টেইনার বলেন, ‘তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার বাইরেও সিরিয়ার পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। এতে দেশটির জনগণের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য নিরসনে উৎপাদনশীলতা পুনরুদ্ধার, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি পুনরুজ্জীবন এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জ্বালানির মতো মৌলিক পরিষেবাগুলোর অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ,–আত্মনির্ভরশীল ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য অপরিহার্য।’

প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে জাতীয় লক্ষ্য তৈরির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও উন্নত বাজার প্রবেশাধিকারের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে এতে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৮-২৪ সালের মধ্যে সিরিয়ার বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ হিসাবে যুদ্ধ-পূর্ব জিডিপি পুনরুদ্ধারে ৫৫ বছর লেগে যাবে। যদি ১৫ বছরের মধ্যে পুনরুদ্ধার করতে হয়, তবে অন্তত ৫ শতাংশ জিডিপি প্রয়োজন, আর যুদ্ধবিহীন পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে হলে ১৪ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে।

ইউএনডিপির আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক আবদাল্লাহ আল-দারদারি বলেছেন, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ একটি শক্তিশালী উন্নয়ন পুনরুদ্ধার পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল।

আরও